অনূর্ধ্ব-১৪ চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি, লাইমলাইটে আল সামী

মোঃ ইলিয়াস
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০২৩
  • শেয়ার করুন

  • Facebook

শেষ হয়েছে ইয়াং টাইগার্স অ-১৪ ন্যাশনাল ক্রিকেট কম্পিটিশন ২০২১-২২ আসর। টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সহজেই।

প্রতি বিভাগে জেলা দলগুলো নিয়ে ডিসেম্বর-জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত হয় বিভাগীয় টুর্নামেন্ট। সেখান থেকে বিভিন্ন জেলার সেরা প্লেয়ারদের নিয়ে ৯টি বিভাগীয় দল গঠন করা হয়। বিকেএসপি তাদের নিজস্ব ক্রিকেটার নিয়ে অংশ নেয় টুর্নামেন্টে।

৮ ফেব্রুয়ারী থেকে ৭ মার্চ, মাসব্যাপী টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে দশটি দল। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে ঢাকা মেট্রো অ১৪, খুলনা বিভাগ অ১৪, রাজশাহী বিভাগ অ১৪, সিলেট বিভাগ অ১৪, চট্টগ্রাম বিভাগ অ১৪, রংপুর বিভাগ অ১৪, বরিশাল বিভাগ অ১৪, ঢাকা বিভাগ দক্ষিণ অ১৪, ঢাকা বিভাগ উত্তর অ১৪ ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দলগুলো খেলেছে সর্বমোট ২৩টি ম্যাচ।

দেশের ৩ শহরের চারটি মাঠে গড়িয়েছে ম্যাচগুলো। ফরিদপুরের শেখ জামাল স্টেডিয়াম, যশোরের শামসুল হুদা স্টেডিয়াম, খুলনার জেলা স্টেডিয়াম ও শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম ছিলো দুই দিনের ম্যাচগুলোর ভেন্যু।

গ্রুপ পর্বের ২০ ম্যাচের মধ্যে ফল এসেছে মাত্র চারটি ম্যাচে; বিকেএসপি ২ জয় ও ঢাকা মেট্রো – চট্টগ্রাম পেয়েছে ১টি করে জয়।
গ্রুপ এ থেকে মেট্রো এক জয়ে ৫ পয়েন্ট ও খুলনা চার ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে উঠেছিলো সেমিফাইনালে ; গ্রুপ বি থেকে বিকেএসপি ২ জয়ে ৬ পয়েন্ট ও চট্টগ্রাম ১ জয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হয়।

সেমিফাইনালে রাজশাহীকে সহজেই হারায় বিকেএসপি। অপর ম্যাচে মেট্রো-চট্টগ্রাম ড্র করলে প্রথম ইনিংসে লিডের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিভাগ জয়ী হয়। আবু নাসের স্টেডিয়ামে তিন দিনের ফাইনালে প্রথম ইনিংসে চট্টগ্রাম ভালো রান করলেও আল সামীর দ্বিশতকে লিড পায় বিকেএসপি, আর তাতেই জয় নিশ্চিত হয় তাদের।

টুর্নামেন্টে বিকেএসপির পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত কোচ তাতেন্দা টাইবু। টুর্নামেন্ট সেরা বোলার, সেরা ব্যাটার, সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস, টুর্নামেন্ট সেরা ও প্রতিটি ম্যাচে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ তার ‘ইয়াং প্রফেশনাল’ শিষ্যরা! তার অধীনে প্রথম কোনো জাতীয় টুর্নামেন্টে বিকেএসপি জিতেছে সহজেই।

টুর্নামেন্টে আশার দিক হলো বেশ ভালো ক’জন লেগ স্পিনার বোলিংয়ে সেরাদের তালিকায় আছে, তবে আশংকার ব্যাপার সেরা আটে সব স্পিনারদের দৌরাত্ম্য। অর্থোডক্স বোলার এবং লেগিদের ভিড়ে সেরা বিশে আছে মাত্র ৩ পেসার!
ব্যাটিংয়ে নজর কেড়েছেন সব ডানহাতিরাই।

টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ খেলা প্লেয়ারদের ভবিষ্যত কতদূর যাবে সেটা সময়ই বলে দেবে। বিকেএসপির ছেলেরা যে ভালোভাবে আরো উন্নতি করে বেড়ে উঠবে সেটা হলফ করে বলাই যায়, তবে দেখার পালা অন্যান্য দলের ছোটো তারকাদের বেড়ে ওঠা কেমন হয়।

আরেকটি শিরোপা জয়ে ঘরোয়া বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য ও সুনাম ধরে রাখলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের আতুড়ঘর বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান – বিকেএসপি। আরেকদিকে চলমান অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে এখন পর্যন্ত বেশ ভালো অবস্থানে আছে প্রতিষ্ঠানের অ১৮ দল।

এক নজরে এবারের যুব অ১৪ প্রতিযোগিতাঃ
চ্যাম্পিয়নঃ বিকেএসপি
রানার্সআপঃ চট্টগ্রাম
ম্যাচঃ ২৩ টি
ইনিংসঃ ৭১টি
রানঃ ১০,০৭৭ রান (অতিরিক্ত ১০৫২)
সর্বোচ্চ ইনিংসঃ ৩১১/১০(চট্টগ্রাম)
সর্বনিম্ন ইনিংসঃ ৪১/১০( ঢাকা উত্তর)
চারঃ ১৩৫৭ টি
ছক্কাঃ ৪৬ টি
ডট বল / বাউন্ডারি পার্সেন্টেজঃ ৮২.২৯ / ৫৬.৬০ %
৫০+ জুটিঃ ৩৫ টি
১০০+ জুটিঃ ৮ টি
অর্ধশতঃ ৩৪ টি
শতকঃ ৪ টি; আল সামী ২১৫, মিনহাজুর ১৪৫, রুবায়েত ১৪৩ ও আল মুমিন ১১৬।
উইকেটঃ ৫৪৯ টি
মেইডেনঃ ১২৯২ ওভার (খালেদ নাদিম ৮০ ওভার)
পাঁচ উইকেটঃ ১৮ বার (সেরা রেদুয়ান ৪৪-৮)
ক্যাচঃ ১৪৫ টি
স্ট্যাম্পিংঃ ১৬ টি

নজর কেড়েছেন যারাঃ

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে চার ইনিংসে ব্যাট-বলে সমান অবদান রাখা আল সামী ফাইনালে করেছেন ২১৫, টুর্নামেন্টসেরাও তিনি |


মুহাম্মদ আল সামী: বিকেএসপির নাম্বার থ্রি ব্যাটার এবং লেগ স্পিনার সামীর পুরো টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্স ছিলো ঝলমলে। সেমিতে বিকেএসপিকে ছক্কা মেরে জেতানো সামী করেছেন টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৩৭৫ রান। ফাইনালে তার খেলা ম্যাচজয়ী ২১৫ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশে কোনো জাতীয় টুর্নামেন্টে অ১৪ প্লেয়ার হিসেবে সর্বোচ্চ! তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ৪৭ এভারেজে ১ ফিফটি এবং এক শতক করা সামী হাঁকিয়েছেন টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ১৩টি ছক্কা।
বল হাতে ৩১ উইকেট নেয়া এই লেগির সেরা বোলিং ৩০-৬। মাত্র ৯ এভারেজে ১১ ইনিংসে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন তিনি। করেছেন ৪৩টি মেইডেন ওভার।
ফাইনালসহ বিকেএসপির খেলা ৬ ম্যাচের ৩টিতেই ম্যাচসেরা এই ‘ওন্ডার কিড’, টুর্নামেন্ট সেরা ক্রিকেটারও তিনি।

ইমরান হোসাইন: ব্যাট হাতে ১৮৪ রানের পাশাপাশি বল হাতে এই লেগস্পিনারের সংগ্রহ তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৪ উইকেট।
সামিউল আলিফ: ঢাকা মেট্রোর সামিউল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪ উইকেটের পাশাপাশি ৮৯ রান করেছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৫ মেইডেন ওভারও করেছেন।
আহসান আল মুমিন: রাজশাহীর এই লেগি ১১ উইকেটের পাশাপাশি ২৯৬ রানও করেছেন। ৫+ উইকেট নেয়া কোনো বোলারের মধ্যে তার স্ট্রাইক রেট সবচেয়ে ভালো। ম্যাচসেরা হয়েছেন দু’বার।
আব্দুর রহিম: চট্টগ্রামের পেসার রহিম ১৬ উইকেটের পাশাপাশি করেছেন ১৮২ রান।
রেদুয়ান আহমেদ রাফি: মাত্র ৪ ইনিংসে এই অফ স্পিনার নিয়েছেন ২১টি উইকেট! টুর্নামেন্টের সেরা বোলিং ফিগারের অধিকারী রাফি ৮ এভারেজে উইকেটগুলো নিয়েছেন। সিলেটের খেলা ৪ ম্যাচের তিনটিতেই ম্যাচসেরা হয়েছে সে।

চট্টগ্রামের মিনহাজুর রহমান করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪৮ রান। কোনো শতক ছাড়াই তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৪৫ রান মেট্রোর হৃদয় হোসেনের।
২১টি করে উইকেট নিয়েছেন খালেদ হাসান নাদিমজায়েদ বিন আলিফ। মাত্র ৭ এভারেজে ১৭ উইকেট সিয়াম খানের
পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট রংপুরের এলিও এক্কার(Aleo Ekka) ১১ এভারেজে ১৭টি। আরেক পেসার রনি মিয়ার শিকার ১৫ উইকেট।
উইকেটের পেছনে চট্টগ্রামের চনমনে রাকিবুল ২০ ডিসমিসালের সাথে করেছেন ১২০ রান।

 

, , , ,

মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরো খবর