Cricketkhor

"ডাল ভাতের সাথে ক্রিকেট খাই,
টাইগারদের জন্য গলা ফাটাই"

আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এবাদত জিততে শিখেছে!

Arfin Rupok

Arfin Rupok

একটি স্পেল, একটি ইতিহাস!
(Photo by Hannah Peters/Getty Images)

প্রথম দশ টেস্ট শেষে নামের পাশে ১১ উইকেট, গড়টাও আশি পেরিয়ে। ১৫ টেস্ট শেষে সেই এবাদতের নামের পাশে ঠিক ২৯ উইকেট, গড়ও নেমেছে পঞ্চাশের ঘরে। সেদিনের ছন্নছাড়া এবাদত এবার জিততে শিখেছে, শিখেছে ঘুরে দাঁড়াতে। সাদা পোশাকে রঙিন দিনে ফেরানোর আভাস দিচ্ছেন স্পিন নির্ভর বাংলাদেশকে!

১৩২.৫ কি.মি. বেগে করা বলটি গুড লেন্থ লাইনে ফেলে করালেন আউটসুইং, ততক্ষণে ব্যাট-প্যাডের গ্যাপ গলিয়ে স্ট্যাম্প ছত্রখান! এবাদত মত্ত স্যালুটে, সাথে পুরো বাংলাদেশ। কিউই দেশে এবাদতের ফেরা, ফেরাটাও রাজকীয়, দুরন্ত…! এবাদত সেদিনই দেখিয়েছিলেন একটা স্পেলে কতকিছুই না সম্ভব। এবাদত জানান দিয়েছিলেন তিনি হারিয়ে যেতে আসেননি, লাল-সবুজের জার্সিতে বাইশ গজ মাতাতেই এসেছেন।

কয়েক মাস আগেও এই এবাদতকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে বেশ, এখনও হচ্ছে। শুধু বদলে গিয়েছে আলোচনার পয়েন্ট। আর এটি বদলাতে বাধ্য করেছে ওটিস গিবসন(বাংলাদেশের সাবেক বোলিং কোচ)। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জয়ের নায়ক কিছুদিন আগে ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে জানিয়েছিলেন এমনটাই।

২০১৯-২০২১ প্রায় দুই বছর কাজ করেছেন গিবসনের কাছে। যার শুরুটা হয়েছিলে বিপিএলে সিলেটের জার্সিতে খেলার মধ্য দিয়ে। মূলত সেই সময়ই গিবসনের সাথে এবাদতের ভুল সুধরে নেওয়ার সুযোগ এসেছিলো। এবাদত সেটি লুফে নিয়েছে, তবে সেটি সময়ের সাথে সাথে! কিন্তু কিভাবে? ১৯ এ টেস্ট ক্যাপ মাথায় দেওয়া এবাদতের এমনও টেস্ট গেছে ২৫/৩০ ওভাট বোলিং করে মাত্র ১ টা উইকেট পেয়েছে! আবার কখনও বা একটা উইকেটের জন্য ২০/২১ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।

এবাদত তার এই কঠিন সময়ে সাথে পেয়েছিলেন গিবসনকে। গিবসনও এবাদতকে তৈরি করেছিলেন নিজের মতো করে। দিয়েছিলেন সাহস জুগিয়েছিলেন আত্মবিশ্বাস। এবাদত যকন একরাশ হতাশা নিয়ে আনমনে বসে থাকতেন তখন গিবসন তাকে সাহস জুগিয়ে বলতেন, “বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তোমার রিলিজ পয়েন্টই সবচেয়ে ভালো। তোমার সবই আছে, শুধু আত্মবিশ্বাসটা নেই। যেদিন তোমার ভেতরে আত্মবিশ্বাস জন্মাবে সেদিনই তুমি হবে দেশের সেরা বোলার।”

সময় গড়িয়েছে, এবাদতও যেনো ফিরে পেয়েছে আত্মবিশ্বাস। এবাদত এখন জানে কি করে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। উইকেটের দুই পাশেই সুইং করানোর ক্ষমতা রয়েছে এবাদতের, সাথে গুড লেন্থের বলগুলো রিভার্স করাতেও বেশ পারদর্শী। গিবসনের পরামর্শে কম শক্তি খরচ করে গতি বাড়ানোর টেকনিক রপ্ত করা এবাদতের বোলিং অ্যাকুরেসিও চোখে পড়ার মতো।

এবাদত ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে রয়েছেন বেশ উপরেই। চলতি বছরে সাদা পোশাকে পঞ্চম সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার এবাদত আজকের দিনের দেখা পেয়েছেন কঠোর অধ্যবসায় আর পরিশ্রমের ফলেই। ক্যারিয়ারের বাজে সময়ে এবাদতকে একটা কথা বলেছিলেন গিবসন, কথাটি ছিলো, “টেস্ট ক্রিকেটে স্বাগতম। তুমি একজন বাংলাদেশি ফাস্ট বোলার। কন্ডিশন তোমার অনুকূলে নয়। বছরে কয়টা টেস্ট খেলো তুমি? কাজেই সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করো।”

গিবসনের সেই কথাটা এখন এদেশের অনেক ক্রিকেট বোদ্ধারাও বলে। আর এটি সম্ভব হয়েছে এবাদতের নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকার ফলেই। কথায় আছে আত্মবিশ্বাস মানুষকে যেকোনো কাজের অর্ধেক পথ এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। এবাদতও যেনো দেশের অন্যতম সেরা টেস্ট বোলার হবার পথেই হাঁটছে……..