Cricketkhor

"ডাল ভাতের সাথে ক্রিকেট খাই,
টাইগারদের জন্য গলা ফাটাই"

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২১ প্রোফাইল: নুরুল হাসান সোহান

Cricketkhor Desk

Cricketkhor Desk

“নুরুল হাসান- আশার প্রদীপ নাকি শুধুই হতাশার”

উইকেটকিপিং এর দিক থেকে নুরুল হাসান সোহান শুধুমাত্র বাংলাদেশের না, ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটের অন্যতম একজন ক্রিকেটার। পরিসংখ্যান সে কথা না বললেও নিয়মিত ক্রিকেট দেখা মানুষ অন্তত সে কথাই বলবে। মুশফিকুর রহিমের বেশ কিছু মিস, লিটন দাশের নীরব কিপিং যেন বারবার স্মরণ করাতো নুরুল হাসানকে। কিন্তু কিপার সোহান হাসলেও হাসে না যে তার ব্যাট।

অবশেষে প্রেসিডেন্ট কাপে হাসলো তার ব্যাট। ৪ ইনিংসে করলেন ১০৮ রান। খেলেছেন ম্যাচজয়ী অপরাজিত ৪১ রানের ইনিংস। ব্যাট হাতে উজ্জ্বল হবার পর কিপিংয়ে ৫ ম্যাচে চমক দেখানো ডিশমিশাল ৯টি। যেখানে তার ধারেকাছেও ছিলেন না কেও।

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে ঈর্ষণীয় না হলেও করলেন নজরকারা পারফরম্যান্স। ৮ ম্যাচে ১০৩ বলে ১৪৬ রান। স্ট্রাইক রেট ১৪২! ১০০+ রান করেছেন এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে যা ৫ম সর্বোচ্চ। কিপিংয়ে ৮ ম্যাচে ক্যাচ নিয়েছেন ৭টি।

করোনার পর এমন প্রত্যাবর্তনে নির্বাচকদের আকৃষ্ট করেন সোহান। জায়গা করে নেন জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে। প্রত্যাশা অনুযায়ী টেস্ট ও ওয়ানডে স্কোয়াডে না থাকলেও টি-টোয়েন্টি তে ৩ ম্যাচেই দেখা গেছে সোহানকে। সঠিক সুযোগ না পেলেও ৩ ম্যাচে ১৭ বল থেকে ২৬ রান আদায় করেছেন তিনি।

জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকে ফিরে সরাসরি কোয়ারেন্টিনে ঢুকে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও সোহান ছিলেন টক অফ দ্য টাউন। দ্বিতীয় ম্যাচেই আফিফের সাথে ভাল একটা জুটি গড়ে ম্যাচ জিতিয়ে জানান দিয়েছিলেন নিজের আগমণের। কিন্তু এরপরে হঠাৎই যেন ছন্দপতন। পরবর্তী ৩ ম্যাচই যেন হতাশার……। সবমিলে ৫ ম্যাচে করলেন ১১ এভারেজে ৪৪ রান।

মুশফিকুর রহিমের আগমণের পরে যখন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সোহানের দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা, ঠিক তখনই কিপিং সহ ৫ ম্যাচেই দেখা গেলো সোহানকে। কিপিংয়ে পাশ মার্কটা পেলেও ব্যাট হাতে আবারো ব্যর্থ দলের প্রয়োজনে। ৩ ইনিংসে ব্যাট হাতে মাত্র ২৫, গড় ৮.৩৩!

পুরো ক্যারিয়ার বিশ্লেষণে গেলে ২০১৬ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া এই ক্রিকেটার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খেলেছেন ২২ ম্যাচ। ১৯ ইনিংসে ব্যাট হাতে ১৪.৪১ গড়ে করেছেন ১৭৩ রান। ১১৭ স্ট্রাইকরেটে সর্বোচ্চ স্কোর ৩০*। ২২ ইনিংসে ডিসমিশাল আছে ১৬ টি।

৪ থেকে ৯ পর্যন্ত মোট ৬ পজিশনে খেলেছেন সোহান। সর্বোচ্চ ১০ ম্যাচ ৭ নাম্বার পজিশনে খেললেও সেরা সাফল্য ৮ নম্বর পজিশনে। ৪ ম্যাচে ১৩১ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ৫৫ রান। সর্বোচ্চ ৩০*।

ডোমেস্টিক টি-টোয়েন্টি তে ১২৭ ম্যাচে ১১৩ ইনিংসে ১২৯.৫১ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ১৭৮৬ রান। এভারেজটা ২৩ এর কোটায়। যেখানে ডিশমিশাল আছে গুণে গুণে ১০০!

২০১৭ সালের জানুয়ারির পর ২০২১ সালের জুন মাস। জাতীয় দলের বাইরে লম্বা একটা সময় পার করে আবার ফিরেছেন প্রিয় জার্সিতে। ২০২১ সালে এসে টানা ১৩ ম্যাচ পেয়েছেন সুযোগ। কখনো হয়েছেন আশার প্রদীপ আবার কখনো হতাশার। সেরা প্রস্তুতির সুযোগটা করে দিয়েছে বিসিবি। জিম্বাবুয়ে সফরের পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সাথে খেলা। নির্বাচকরাও আস্থা রেখেছেন পুরোপুরি। টানা ৩ সিরিজের পর বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তিনি। গ্লাভস হাতে সেরাটা দেয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও হাসতে হবে সোহানকে।

সোহান পারবে কি ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা পূরণ করতে? হাসবে কি সোহানের ব্যাট? উত্তরটা সময়ই বলে দেবে। ওমান এবং আমিরাতে সোহানের ব্যাট হাসাটা খুবই জরুরী দলের জন্য। সোহানের রয়েছে সেই সক্ষমতাও। শুধু প্রয়োজন ধারাবাহিকতার ও নিজের সেরাটা দেয়ার।