Cricketkhor

"ডাল ভাতের সাথে ক্রিকেট খাই,
টাইগারদের জন্য গলা ফাটাই"

১ এর নিচে যখন ইকোনমি রেট

Marajul Islam

Marajul Islam

কথায় আছে কিপটের ধন পিপীলিকায় খায়। তবে ক্রিকেট মাঠে কিছু কিপটে আছে যাদের ফলে তার দলের সুবিধা হয়। এই কিপটেরা মিতব্যয়ী বোলিং করে প্রতিপক্ষকে কম রানে বেধে ফেলতে সহায়তা করে। তাই কিপটে শব্দটির প্রয়োগ বাস্তব জীবনে ঋণাত্মক হলেও ক্রিকেটে নিজ দলের জন্য তা দারুণ পজেটিভ। তবে প্রতিপক্ষের জন্য তা অবশ্যই মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে যায়।

বর্তমান সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে আঁটসাঁট বোলিং করে ব্যাটিং দলের রানের চাকা থামিয়ে দিলে বিরাট কোহলি আর স্টিভেন স্মিথ সবারই মনে হাসফাস আরম্ভ হয়ে যাবে। ফলে সহজেই উইকেট পাওয়া হয়ে যায়। অবশ্য ব্যতিক্রম দেখা যায় না যে তা কিন্তু নয়। তবে একটা সময় ছিলো যখন টেস্টে রানের চেয়ে টিকে থাকাটাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হত। এখনও দেয়া হয় তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দামামা ব্যাটসম্যানদের মনে কিছুটা হলেও অধিক স্বপ্নবাজ করে দেয়। তাইতো এখন দুইশয়ের অধিক বল খেলে কোন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করলে তাকে নিয়ে সমর্থকদের মাঝে ঝড় আরম্ভ হয়ে যায়। অথচ একসময় এগুলো ছিলো নিয়মিত ব্যাপার-স্যাপার। অফ স্টাম্পের বাইরে বল আর ব্যাটসম্যান তার মনকে সংযত রাখবে, পারফেক্ট টেস্ট খেলার পারফেকশনিস্টকে এখন টেস্ট ব্যাটারের তকমা দিয়ে রঙ্গিন ক্রিকেট থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। তবে ব্যাপারটা দেড় দশক আগেও এমন ছিলো না। ওয়ানডে ক্রিকেটে রান অল্প হউক ক্রিজে থাক শেষের দিকে পুষিয়ে নিব এই নীতিই ছিলো। সময়ের পরিক্রমায় ক্রিকেট ম্যাচের দৈর্ঘ্য হয়েছে ছোট। ব্যাটসম্যানরাও এখন ক্রিজে থেকে ইনিংস বিল্ডআপ তরিকা মাঠে দেখায় না। অবশ্য সেই তরিকার নাম বদল হয়ে আর একটু রঙ মাখিয়ে নাম হয়ে গেছে অ্যাংকরিং রোল। এই রোলের ব্যাটসম্যানরাও সেই যুগের সবচেয়ে বড় হার্ডহিটারের চেয়ে কিছুটা ধীর গতিতে রান তুলে। যাইহোক যেটা বলতে চাই সবকিছু মিলিয়ে ক্রিকেট বদলেছে। এই বদলে সবচেয়ে বেশী পরিবর্তন হয়েছে ওয়ানডে ক্রিকেটের। এখন মিডিওকর কোন খেলোয়াড়ের ওয়ানডে ক্রিকেটে লম্বা সময় ধরে খেলা যাওয়া বিরল। একসময় প্রতিটা দলেই এরকম খেলোয়াড় এর উপস্থিতি ছিলো। বোলাররা আগের চেয়ে অনেক বেশী রান দেয়। ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইকরেটও দেঢ় বৃদ্ধি পেয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ম্যাচে রান হচ্ছে বেশী, অনেক বেশী। ফলে ব্যাটিংয়ের বিভিন্ন রেকর্ড হরহামেশাই ভাঙ্গছে। তারপর আবার নতুন করে ভাঙ্গছে।

ফিল সিমন্সের করা ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে ইকোনমিক স্পেলের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং কার্ড

আর সবকিছু মিলিয়ে ফিল সিমন্স কিছুটা হলেও মজে আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভাগা ভাগা পেসারদের সাথে তুলনা করলে ফিল সিমন্সের নামটি উপরের দিকে যে থাকবে না তা তিনি নিজেও একবাক্যে স্বীকার করে নিবেন। তবে তার একটি রেকর্ড এখনও বহাল তবিয়তেই আছে। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মারমার কাটকাট অবস্থা বিরাজমান থাকায় এই রেকর্ডটা যে সহসাই ভাঙ্গবে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারও শনি-বৃহস্পতি, মঙ্গল-বুধ তুঙ্গে থাকলেও এটা হবার সম্ভাবনা কম। ভবিষ্যতে এই একইরকম থাকবে তাও হলফ করে বলা যায়।

১৯৯২ সালের ১৭ ই ডিসেম্বর। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চলছে পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ওয়ানডে ম্যাচ। ওয়ানডে ক্রিকেটের ৭৮২ নম্বর ম্যাচটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ফাস্ট বোলার ফিল সিমন্সের বোলিং স্পেল ছিলো ১০.০-৮-৩-৪ অর্থাৎ ১০ ওভারে ৮ টি মেইডেন ওভার দিয়ে ৩ রানে ৪ উইকেট। ইকোনমি রেট ০.৩। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটিই এক ইনিংসে সর্বনিম্ন ইকোনমি রেটের ঘটনা। এতক্ষণ হয়তো মনে করেছেন কি সব উল্টা পাল্টা বকছি। আসলেই অনেক কিছু বলেছি তবে মূল বক্তব্য ছিলো এটাই। ওয়ানডে ক্রিকেটে ১ এর নিচে ইকোনমি রেট রেখে স্পেল শেষ করার ঘটনা ঘটেছে ৪৭ বার। এর মধ্যে ফিল সিমন্সের স্পেল সবার উপরে থাকবে।

প্রথমবার ওয়ানডেতে ১ এর নিচে ইকোনমি রেট রাখেন নিউজিল্যান্ডের রিচার্ড হ্যাডলি

৭ জুন ১৯৭৫, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পূর্ব আফ্রিকার খেলা। বিশ্বকাপের সে ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের হয়ে কিংবদন্তি অলরাউন্ডার রিচার্ড হ্যাডলির বোলিং স্পেলে ইকোনমি রেট ছিলো ০.৮৩। ১ এর নিচে ইকোনমি রেটের ঘটনা এটাই ছিলো প্রথম। অবশ্য তখন ৬০ ওভারের খেলা হত আর একজন বোলার করতে পারত সর্বোচ্চ ১২ ওভার করে। ১২ ওভার করে রিচার্ড হ্যাডলি ঐ দিন ৬ মেইডেন সহযোগে দেন ১০ রান। তার চার দিন পরই লিডসে ভারতের মুখোমুখি হয় পূর্ব আফ্রিকা। বিষাণ সিং বেদী সেই দিন রিচার্ড হ্যাডলির রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে ১২ ওভারে দেন ৬ রান। ৮ টি মেইডেন সাথে ১ উইকেট। ইকোনমি রেট ছিলো ০.৫। পূর্ব আফ্রিকার বিপক্ষে আরো একটি ১ এর নিচে ইকোনমি রেখে বোলিং স্পেল হয়। সেই বিশ্বকাপের রানার্সআপ ইংল্যান্ড ১৪ জানুয়ারি খেলে তাদের বিপক্ষে। সেখানে ইংল্যান্ডের জন স্নোর বোলিং স্পেলটা ছিলো, ১২.০-৬-১১-৪। ইকোনমি রেট ০.৯১।

তবে বিষাণ সিং বেদীর রেকর্ডটি ছিলো সবচেয়ে কম ইকোনমির রেকর্ড। এই রেকর্ড আসন গেড়ে ছিলো ১৭ বছর। হয়তো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কেউ কোন রেকর্ডের সবার উপরে থাকবে তা পাকিস্তানবাসীর পছন্দ হয়নি! তাদের বিপক্ষে হলো না তারা নিজেরাই সে সুযোগ দিলো তা নিয়ে বিস্তর গবেষণার অবকাশ নেই। ১ লা মার্চ ১৯৯২ সালে এডিলেডে ইংল্যান্ডের ডারমট লিভি পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ ওভার বোলিং করে দেন ২ রান। ৩ মেইডেন আর ১ উইকেটে লিভির ইকোনমি রেট ছিলো ০.৪। এটাই তখন হয়ে যায় ওয়ানডেতে সবচেয়ে কিপটে বোলিংয়ের রেকর্ড। বছরের শেষ দিকে এই রেকর্ডটা দুইয়ে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দেয় আবারও পাকিস্তান। এবার বোলার ফিল সিমন্স।

বিষাণ সিং বেদী, ১ এর ইকোনমি রেট রাখা প্রথম এশিয়ান

সেরা তিনের গল্প বলা হল। এবার চারের পালা। চার নম্বরে রয়েছে আরেক উইন্ডিজ পেস সেনসেশন কার্টলি এমব্রোস। ১৯৯৯ সালের ১৩ অক্টোবর শারজাতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার স্পেলটি ছিলো ১০.০-৫-৫-১। ৫ মেইডেন আর ৫ রান। ৫ ডিসেম্বর ১৯৮৬, ভারতের বিপক্ষে শারজাতে ওয়াসিম আকরামের বোলিং স্পেলটি ছিলো ৭.২-৪-৪-২। ইকোনমি রেট ০.৫৪। এক ইনিংসে সবচেয়ে কম ইকোনমি রেট রাখার হিসেবে এটি জায়গা করে নিয়েছে পাঁচ নম্বরে।

১ এর নিচে ইকোনমি রেট রাখার ঘটনাগুলো ২০০০ সালের পরে হয়েছে ১৩ বার। যার সর্বশেষ উদাহরণ ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের। ওয়েলিংটনে সেই ম্যাচে তার বোলিং স্পেলটি ছিলো ৫.২-১-৫-৩। ইকোনমি রেট ০.৯৩। তার আগে ঘটেছে ৬ ডিসেম্বর ২০১১ সালে। চট্রগ্রামে এই রেকর্ডটি করেন পাকিস্তানের সাইদ আজমল। প্রতিপক্ষ ছিলো বাংলাদেশ। সাইদ আজমলের স্পেলটি ছিলো ৭.০-৪-৬-২। ইকোনমি রেট ০.৮৫। ১ এর নিচে ইকোনমি রেট রাখার ঘটনা পাকিস্তানিরা করেছে মোট চারবার। ওয়াসিম আকরাম আর সাইদ আজমল বাদে এই রেকর্ড আছে স্পিনার আব্দুল কাদির আর আরশাদ খানের। আরশাদ খান ২০০০ সালের ২ জুন বাংলাদেশের বিপক্ষে ঢাকায় স্পেলটি ছিলো, ৮.০-৪-৫-১। ইকোনমি রেট ০.৬২। ক্রিকেট ইতিহাসের ১৫৯৯ নম্বর ওডিআই ছিলো সেটি।

পাকিস্তানের লেগ স্পিনার আবদুল কাদির

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শারজাতে ১৫ এপ্রিল ১৯৮৬ সালে আব্দুল কাদিরের বোলিং স্পেল ছিলো ১০.০-৪-৯-৪। ইকোনমি রেট ০.৯। শারজাতে ১ এর নিচে ইকোনমি রেট রাখার ঘটনা ঘটেছে ৪ বার। কার্টলি এমব্রোস, আবদুল কাদির, ওয়াসিম আকরাম আর মুত্তিয়া মুরালিধরন। ২০০২ সালের ৯ এপ্রিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুরালিধরন ১০ ওভারে ৩ মেইডেন সহযোগে ৯ রানে নেন ৫ উইকেট। এর আগে ২০০০ সালের ৪ অক্টোবর নাইরোবির জিমখানা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৩ মেইডেনে ৯ রান দিলেও কোন উইকেট পাননি। নাইরোবির জিমখানা স্টেডিয়ামে আরও দুইবার ১ নিচে ইকোনমি রেট রেখে বোলাররা স্পেল শেষ করে। ১৯৯৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ভারতের সুনীল জোশির দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্পেলটি ছিলো ১০.০-৬-৬-৫। ইকোনমি রেট ০.৬। ১৭ অক্টোবর ২০০৮ সালে জিম্বাবুয়ের রে প্রাইসের আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে স্পেলটি ছিলো ১০.০-৫-৭-০।

১ এর নিচে ইকোনমি রেট রাখার ঘটনা সবচেয়ে বেশী ঘটেছে জুন এবং ডিসেম্বর মাসে। জুনে অধিক বৃষ্টিপাত এবং ডিসেম্বরে বেশী কুয়াশা থাকার কারণে এই দুই মাসে পিচের অবস্থা ভালো থাকে না ফলে এই ঘটনা বেশী এই দুই মাসেই ঘটেছে। বছর হিসেব করলে ২০০০ সালে এই ঘটনা হয়েছে ৫ বার। আরশাদ খান, মুত্তিয়া মুরালিধরন ছাড়াও আর তিনজন হলেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রা, দক্ষিণ আফ্রিকার শন পোলক আর ইংল্যান্ডের এন্ড্রু কার্ডিক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৬ ফেব্রুয়ারী এবং ২০ ফেব্রুয়ারী স্পেল দুটি করেন যথাক্রমে শন পোলক এবং এন্ড্রু কার্ডিক। দুজনেই ৮ ওভার বোলিং করে ৪ মেইডেন নিয়ে ৭ রান রান দেন। ইকোনমি রেট ছিলো ০.৮৭। পোলক ৩ উইকেট পেলেও কার্ডিক কোন উইকেট পাননি। গ্লেন ম্যাকগ্রা ১৪ জানুয়ারি সিডনিতে ভারতের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৪ মেইডেন নিয়ে ৮ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট।

১ এর নিচে ইকোনমি রেট রাখার কৃতিত্ব ২ বা তার অধিক বার করে করার সৌভাগ্য হয়েছে ৪ জন বোলারের। তারা হলেন ভারতের কপিল দেব, শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন, দক্ষিণ আফ্রিকার শন পোলক আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের কার্টলি এমব্রোসের। পোলকের এই কীর্তি আছে তিনবার করে, সেখানে এমব্রোসের আছে চার বার। ভারতের কপিল দেব এই কৃতিত্ব প্রথম করেন। ১৯৮৯ সালে পোর্ট অব স্পেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯ মার্চ ৭ ওভার বল করে ৪ মেইডেন নিয়ে ৪ রান দেন, ইকোনমি রেট ০.৫৭। ১৯৯১ সালে ৮ ডিসেম্বর পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার স্পেলটি ছিলো, ৬.০-২-৫-১। ইকোনমি রেট ০.৮৩। মুত্তিয়া মুরালিধরনের দুটো কীর্তি এর আগে উল্লেখ করা হয়েছে। শন পোলক এবং এমব্রোসের ১ টি করে উল্লেখ করা আছে। এমব্রোস ১ ডিসেম্বর ১৯৯৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেন, ৫.০-২-৪-০। ২৭ মে ১৯৯৯ সালে লিস্টারে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তার স্পেলটি ছিলো, ১০.০-৪-৮-২। শন পোলকের আরেকটি ১ এর নিচে ইকোনমি রেট রাখার ঘটনাটি ছিলো ২০০৭ বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ ছিলো নেদারল্যান্ডস। তার স্পেলটি ছিলো, ৬.০-৩-৪-১। ইকোনমি রেট ০.৬৬। ১০ অক্টোবর ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে শন পোলকের স্পেলটি ছিলো, ১০.০-৪-৯-১।

কপিল দেব, মুত্তিয়া মুরালিধরন, শন পোলক এবং কার্টলি এমব্রোস দুই বার করে ১ এর নিচে ইকোনমি রেট রাখার ঘটনা ঘটান।

আয়ারল্যান্ডের বোলাররা এক এর নিচে ইকোনমি রেট রেখে স্পেল শেষ করেছে এমন ঘটনা দুইবার হয়েছে। এন্ড্রে বোথা ১৭ মার্চ ২০০৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইকোনমি রেট ছিলো ০.৬২। তার বোলিং স্পেলটি ছিলো, ৮.০-৪-৫-২। ২২ আগস্ট ২০০৯ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এলেক্স কাসাকের স্পেলটি ছিলো, ৫.০-২-৩-০। ১৫ মার্চ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কেনিয়ার আসিফ করিমের স্পেলটি ছিলো, ৮.২-৬-৭-৩, ইকোনমি রেট ০.৮২। আয়ারল্যান্ড টেস্ট স্টাটাস পাওয়ার পর সহযোগী দেশ সমূহের মধ্যে ১ এর নিচে ইকোনমি রেট রেখে স্পেল শেষ করার ঘটনা এই একটিই।

বাংলাদেশের কোন বোলারের ওয়ানডেতে ১ এর নিচে ইকোনমি রেট রেখে বোলিং স্পেল শেষ করার রেকর্ড একবারও নেই। আশা করি সামনে বাংলাদেশের কোন বোলার ১ এর নিচে ইকোনমি রেট রেখে বোলিং স্পেল শেষ করবে এবং ২০১৭ সালের পর আবার রেকর্ড বইয়ের এই অধ্যায়ে আরেকটু নড়াচড়ার সুযোগ করে দিবে।

ডট এর পরে ডট, ক্রিকেট মাঠে এই দৃশ্য দেখতে বিরক্ত লাগে। নিজের প্রিয় দল এটা করলেও খুশি হওয়া যায় তবে টিভিসেটের সামনে বসে থাকাটা একটু হলেও অস্বস্তিকর লাগবে। এক এর নিচে ইকোনমি রেট রেখে বোলিং স্পেল গুলো দেখতে একই রকম লেগেছিলো তবে যারা ধৈর্য ধরে শেষ পর্যন্ত দেখেছে তারা গর্ব করে বলতেই পারে দারুণ একটা কিছুর সাক্ষী তারা ছিলো। শেষ করব ফিল সিমন্সের কথা বলে। অনেক কিছুই হতে পারে তবে ফিল সিমন্স কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত অন্তত তার উত্তরসূরীরা তার রেকর্ড ভাঙ্গার সাহসও করবে না। তবে ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। হয়তো সামনেই উলটপালট হয়ে যেতে পারে!

ডোয়াইন পিট্রোরিয়াস শেষবার ওয়ানডেতে ১ এর নিচে ইকোনমি রেট রাখেন