Cricketkhor

"ডাল ভাতের সাথে ক্রিকেট খাই,
টাইগারদের জন্য গলা ফাটাই"

ছয় মাস ধরে নিষ্ফল টাইগ্রেস পেসাররা!

Cricketkhor Desk

Cricketkhor Desk

জাহানারা আলম (ছবি: গেট্টি)

বিশ্ব ক্রিকেটে যেখানে নতুন বলে তাণ্ডব চালাচ্ছেন পেসাররা সেখানে নিস্ফল বাংলাদেশের পেসাররা। টানা ছয় ম্যাচে উইকেট শূন্য পেসারদের উপর যেনো বল তুলে দেওয়ার ভরসাও পাচ্ছেন না অধিনায়ক জ্যোতি। ২৭ মার্চে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রিতু মনির পর আর কোনো টাইগ্রেস পেসারের ঝুলিতে উঠেনি উইকেট!

টাইগ্রেস বোলারদের নেতা বলা হয় জাহানারা আলমকে। সাম্প্রতিক সময়ে জাহানারা আলম যেনো একেবারেই দুধভাত। গতকাল থাইল্যান্ডের বিপক্ষে যেখানে সবাই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান আটকে রাখার চেষ্টা করলেন তখনি জাহানারার এলোমেলো লাইন-লেন্থে এক ওভারে ২ বাউন্ডারিতে খরচ করলেন ১২ রান!

এছাড়া মে মাসে দুবাইতে বিশ্বের নামীদামী সব তারকাদের উপস্থিতিতে ফেয়ারব্রেক ইনভাইটেশনাল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টেও জাহানারা ছিলেন নিষ্প্রাণ! দলের মূল পেসার হয়েও ৭ ম্যাচে মাত্র ১ উইকেট শিকার করলেও রান দিয়েছেন ওভার প্রতি প্রায় ৯ করে।

জাতীয় দলের প্রসঙ্গে এলে সর্বশেষ ৬ মাসে জাহানারা- রিতু মনি- লতা মণ্ডল কিংবা ফারিহা তৃষ্ণারা তেমন কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতিকে। এরমাঝে ৬ টি-২০ ম্যাচে পেসাররা বল করেছে যথাক্রমে ৪, ৫, ৫, ১, ০, ২(১৭ ওভার)। বলের হিসেবে ১০২ বলে পেসারদের ঝুলিতে শূন্য উইকেট। মূলত সিনিয়র জাহানারা আলমের জন্য নিয়মিত সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছেন তৃষ্ণা, সুরাইয়ার মতো তরুণ পেসাররা।

মারুফা আক্তার

মারুফা আক্তার মনি; মাত্র ১৭ বছর বয়সে ডিপিএলে সর্বোচ্চ এবং এনসিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট নিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন ডানহাতি এই পেসার। ন্যাচারাল সুইং, পেস দেখে অনেকে তাকে তুলনা করেছেন আফ্রিকার শবনিম ইসমাইলের সঙ্গে! বাছাইপর্বের স্কোয়াডে তাকে রাখা হলো, প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করার পরও কোনো ম্যাচে সুযোগ মেলেনি তার। দেশে ফিরে এশিয়া কাপ স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়া হলো তাকে! ‘কমবয়সী, অনভিজ্ঞ’ এসব শব্দ ছাড়া বাদ দেয়ার নির্দিষ্ট কোনো কারণ শোনা যায়নি অন্তর্বর্তীকালীন ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে।

এতদিন ধরে ম্যাচ খেলার সুযোগ খুবই কম পাওয়া মেয়েরা এখন পাবে নিয়মিত ম্যাচ, সিরিজ। আইসিসি ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুবাদে টাইগ্রেসদের প্রথম সিরিজ নিউজিল্যান্ডে। সেখানে স্পিন এটাকের উপর মূল ভরসা করে থাকা যাবে না তা জানে কোচ-ক্যাপ্টেন সবাই, তবে এরপরও দেশের মাটিতে নিয়মিত পেসারদের খেলিয়ে কেনো প্রস্তুত করা হচ্ছে না তা অজানা।

বাইশ গজে টাইগ্রেস পেসারদের এমন পারফরম্যান্সে বেশ চিন্তায় পড়তে পারেন ম্যানেজম্যান্টরা। কেননা, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দিপাক্ষিক সিরিজের পর সামনের বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বাউন্সি উইকেটে খেলতে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। স্পিনের উপর পুরো ভরসা করে সাময়িক সাফল্য পেলেও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের আগে পেসারদের এমন পারফরম্যান্স চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।