Cricketkhor

"ডাল ভাতের সাথে ক্রিকেট খাই,
টাইগারদের জন্য গলা ফাটাই"

দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট কাটলো বাংলার বাঘিনীরা

Sayem

Sayem

থাইল্যান্ডকে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৩ এ শেষ দল হিসেবে জায়গা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। বাছাইপর্বের সেমিফাইনালে জয়ের মধ্য দিয়ে মূল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি চতুর্থবারের মতো বাছাই টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশের জন্য একপ্রকার রুটিন টুর্নামেন্ট। আগে চার বার খেলে তিনবারই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলার মেয়েরা। দুইবার বাছাই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ও একবার রানার্সআপ হয়েছিলো বাংলাদেশ। এবারও সবচেয়ে প্রফেশনাল ও সেরা দল বাংলাদেশ টপ ফেভারিট হিসেবেই টুর্নামেন্টে গিয়েছিল। আরও একবার বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিলো জ্যোতির দল

সেমিফাইনালে জায়েদ আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় থাইল্যান্ড। বাংলাদেশ আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পায়।
করোনা থেকে সুস্থ হয়ে একাদশে ফেরেন দলের সেরা ব্যাটার ফারজানা হক পিংকি। শামীমা সুলতানার পরিবর্তে একাদশে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি।

ধীরেসুস্থে শুরুটা করেন দুই ওপেনার মুর্শিদা ও পিংকি। ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক মেলাতে পারছিলেন না দুই ব্যাটারই। পাওয়ারপ্লে বাংলাদেশ শেষ করে কোনো উইকেট না হারিয়ে মাত্র ২৭ রানে। সপ্তম ওভারে বাজে শট খেলে ৩০ গজ বৃত্তের ভেতরে ক্যাচ আউট হয়ে ফেরেন ফারজানা হক পিংকি। পরের চার ওভারে গতি বাড়িয়ে খেলে জ্যোতি ও মুর্শিদা। চার মেরে দলীয় অর্ধশতক তুলে নেন ক্যাপ্টেন। ইনিংসের মাঝপথে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫০-১। বারোতম ওভারে রান আউট হয়ে ফেরেন মুর্শিদা খাতুন, ৩৫ বলে ২৬ রানের ইনিংসে দুটো বাউন্ডারি মারেন তিনি। ধীরগতির খেলায় ৭-১২ ওভারে মাত্র ১৫ রান আসে! ক্যাপ্টেন জ্যোতি ২৪ বলে ১৭ রান করে কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন। শীর্ষ ৩ ব্যাটার ৭০ এ কম স্ট্রাইক রেটে খেলে বাংলাদেশকে বেশ চাপে ফেলে দেয়। ১৫ ওভার বাংলাদেশ শেষ করে ৬৮-৩ এ। আরও একবার হতাশাজনক পারফরম্যান্স উপহার দেন মোস্তারি, মাত্র ৬ রানে আউট হয়ে যান তিনি। শেষদিকে ব্যাটে ঝড় তোলেন রুমানা আহমেদ ও রিতু মনি। আঠারোতম ওভারে রুমানার ছক্কা ও রিতুর চারে দলীয় শতরান পার করে বাংলাদেশ। শেষ ৩ ওভারে ৩২ রান এলে টাইগ্রেসদের ইনিংস থামে ১১৩-৫ এ। চাপের মুহুর্তে ২৮* রানের দারুণ ইনিংস খেলেন রুমানা। ১৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন রিতু।

এদিনও দুর্দান্ত বোলিং করেছেন সানজিদা আক্তার মেঘলা

ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারে থাইল্যান্ডের ওপেনিং জুটিতে আঘাত হানেন সালমা খাতুন। পঞ্চম ওভারে মেঘলা এসে জোড়া শিকার করেন। ডাবল উইকেট মেইডেন আদায় করে নেন নিজের প্রথম ওভারটি! পরবর্তী ওভারে এসে আরেকটি মেইডেন ওভার করেন রুমানা আহমেদ। থাইল্যান্ড পাওয়ারপ্লে শেষ করে ১৩-৩ এ। ১০ ওভার তারা শেষ করে ২৭-৩ এ। এরপর সীমিত জুটি গড়েন চান্থাম ও ক্যাপ্টেন চাওয়াই। দু’জনে ৩২ রান যোগ করার পর নাহিদার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে চাওয়াই ফেরেন। চৌদ্দ ওভার খেলে দলীয় পঞ্চাশ পার করে থাইল্যান্ড। শেষ ৬ ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৬৪ রানের! শেষদিকে আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠেন চান্থাম। রুমানাকে দুটো ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তিনি। ৪৪ বলে অর্ধশতক তুলে নেন এই ওপেনিং ব্যাটার। অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে বল গ্রিপ করতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হচ্ছিল বাংলাদেশ বোলারদের। সেটার ফায়দা দারুণভাবে তোলেন চান্থাম। শেষ ৩ ওভারে থাইল্যান্ডের দরকার ছিল ৫১ রানের, দুই ওভারে ১৬+১৩ তুলে খেলা জমিয়ে তোলে থাই ব্যাটাররা। শেষ ওভারে ২২ রান ডিফেন্ড করার প্রয়োজন পড়লে ক্যাপ্টেনের ভরসা অভিজ্ঞ সালমা খাতুনের উপর। প্রথম ৩ বলে মাত্র ৫ রান দিয়ে ম্যাচ নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসেন সালমা। চতুর্থ বলে ছক্কা মারা চান্থাম পঞ্চম বলে বোল্ড হয়ে গেলে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ বলে আরো একটি উইকেটের পতন ঘটলে বাংলাদেশ ১১ রানে জয় পেয়ে যায়। নিশ্চিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা এবং বাছাই টুর্নামেন্টের ফাইনালে অংশগ্রহণ।

দল হারলেও ৫১ বলে ৬৪ রানের মারকুটে লড়াকু ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন থাইল্যান্ডের নাট্টাখান চান্থাম৷ তার দল এবার খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে। আইসিসির হতাশাজনক নিয়মাবলীর ফাঁদে পড়ে তার দলের এ নিয়ে তৃতীয় বার বড় স্বপ্ন ভঙ্গ হলো। গত বার ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব স্থগিত হওয়ায় বাদ পড়া, অ১৯ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারা এবং এবার মাত্র ১০ দলের বিশ্বকাপ হওয়ায় সেখানে উত্তীর্ণ হতে না পারা!
অন্যদিকে পরশু রাতে ফাইনালে বাংলাদেশের সামনে প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড। দু’বারের চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এবারের লক্ষ বাছাইপর্বের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
বাংলাদেশ ১১৩-৫(২০)
রুমানা ২৮*, মুর্শিদা ২৬, রিতু ১৭, জ্যোতি ১৭, পিংকি ১১; কানো ১৩-১।
থাইল্যান্ড ১০২-৬(২০)
চান্থাম ৬৪, চাওয়াই ১২; সালমা ১৮-৩, মেঘলা ৭-২, নাহিদা ২৫-১ |