Cricketkhor

"ডাল ভাতের সাথে ক্রিকেট খাই,
টাইগারদের জন্য গলা ফাটাই"

বাজে পারফরম্যান্সে হারলো স্বাগতিকেরা

Sayem

Sayem

প্রমীলা এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের সম্মুখীন হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। সিলেটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক, এককথায় ‘ল্যাক অফ ইনটেন্ট’ নিয়ে যেনো আজ খেলতে নেমেছিল টাইগ্রেসরা। মাত্র ৭০ রান বোর্ডে তোলার পর বাংলাদেশের হার ৯ উইকেটে।

Nigar Sultana Joty captain of Bangladesh and Bismah Maroof captain of Pakistan at toss

তিন ব্যাটারের সীমিত ইনিংসে মোটামুটি মানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের অল স্পিন অ্যাটাক দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। ফলে অনুমিতভাবেই ম্যাচের ৪৬ বল বাকী থাকতেই সহজ হার দেখে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে বেশ সংগ্রাম করেছে, কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানিরা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাট করেছে!

ভেজা মাঠে মেঘলা সকালে টস হেরে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান ক্যাপ্টেন বিসমাহ মারুফ। বাংলাদেশ এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে, জাহানারা আলমের পরিবর্তে দলে আসেন লতা মন্ডল।

অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে সময় নেয়নি পাকিস্তানি পেসাররা। শুরুর ওভারেই আগের ম্যাচের সেরা ব্যাটার শামীমা সুলতানাকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান ডায়ানা বাইগ। পরের ওভারে আরেক ওপেনার ফারজানা হক পিংকিকে বোল্ড করে উইকেট মেইডেন ওভার আদায় করে নেন সাদিয়া ইকবাল। বাইগ নিজের দ্বিতীয় ওভারটি মেইডেন করেন। চতুর্থ ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে টানা তিন মেইডেনের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন। তবে পরের ওভারের শুরুর বলেই এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রুমানা আহমেদ। তিনটি উইকেট দ্রুতই হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ, সেই চাপকে কিছুটা কমাতে ওভারের শেষে ব্যাক টু ব্যাক বাউন্ডারি মারেন ক্যাপ্টেন জ্যোতি। তবে পাওয়ারপ্লে’র শেষ ওভারটি আবারও মেইডেন দেন বাংলাদেশী ব্যাটাররা। শুরুর ৬ ওভারে ৩০টি ডট বল খেলে বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে তোলে ১২-৩!

যেখান থেকে বিপর্যয়ের শুরু; ডায়ানার বলে বোল্ড শামীমা!


এরপর ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন নিগার সুলতানা জ্যোতি ও লতা মন্ডল। ধীরেসুস্থে খেলে ২৪ রানের জুটি করেন দু’জনে। দশম ওভারে ১২ রান করে আউট হয়ে যান লতা। ইনিংসের মাঝপথে বাংলাদেশ ২৭-৪! দেখেশুনে ব্যাট করা জ্যোতি ১৭ রান করে এলবি আউট হন, এর আগে সালমার সঙ্গে ১৫ রানে ছোট জুটি বাঁধেন তিনি। মাত্র ৪২ রানে পাঁচটি উইকেটের পতন ঘটে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। আরও একবার হতাশ করেন সোবহানা মোস্তারি। ৬ উইকেট হারিয়ে দলীয় অর্ধশত রান পার করে বাংলাদেশ। ম্যাচের আড়াই ওভার বাকী থাকতে রিতু মনি রান আউট হওয়ার পরপরই হানা দেয় বেরসিক বৃষ্টি। প্রায় ৩৫ মিনিট বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয় খেলা। বৃষ্টির পর দৃষ্টিনন্দন এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে এরপর দারুণ থ্রোতে রান আউট হয়ে ফিরতে হয় নাহিদাকে। শেষ ওভাবে ৬ রান এলে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৭০ রানে। মাত্র তিন ব্যাটার দুই অঙ্কের রান করেন। নিদা দার ও ডায়ানা বাইগ দুইটি করে উইকেট নেন।

ব্যাটে-বলে একাই লড়েছেন সালমা খাতুন

জবাবে উড়ন্ত সূচনা করে দুই ওপেনার। চার ওভারে ৩০ তুলে ফেলে সিদরা আমিন ও মুনিবা আলী। পাওয়ারপ্লে শেষে তারা তুলে ফেলে বিনা উইকেটে ৪০ রান। দলীয় ফিফটি করার ঠিক আগমুহূর্তে শামীমার দুর্দান্ত ক্যাচে মুনিবা আউট হয়ে ফেরেন। আট ওভারে দলীয় অর্ধশতক করে ফেলে পাকিস্তান। ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের টার্গেটে আর বাকী থাকে মাত্র ১১ রান। তেরো ওভারেই জয় পেয়ে যায় পাকিস্তান। চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন পাকিস্তান ক্যাপ্টেন। চার বাউন্ডারিতে ৩৬* রান করা সিদরা আমিন হয়েছেন ম্যাচসেরা।

সেমিফাইনালের দৌঁড়ে এই হার বাংলাদেশের জন্য তেমন ক্ষতি করবে না। তবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের জন্য এটি হবে একটি ‘ওয়েক-আপ কল’। এই ম্যাচ থেকে উল্লেখযোগ্য ভুলগুলো শুধরে নিয়ে পরবর্তী ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোই হবে জ্যোতির দলের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ৭০-৮(২০)
সালমা ২৪, জ্যোতি ১৭, লতা ১২; বাইগ ১১/২, নিদা ১৯/২, সাদিয়া ১০/১।

পাকিস্তান ৭২-১(১২.২)
আমিন ৩৬, মুনিবা ১৪, বিসমাহ ১২;
সালমা ২৭-১ |