Cricketkhor

"ডাল ভাতের সাথে ক্রিকেট খাই,
টাইগারদের জন্য গলা ফাটাই"

নাহিদার রেকর্ড বোলিংয়ে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে

Sayem

Sayem

সিরিজের সবগুলো পুরষ্কারই বাংলার মেয়েদের

প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করে রেখেছিলো বাংলার বাঘিনীরা। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ মাঠে নামে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্যে, জিম্বাবুয়ে নেমেছিলো জয় নিয়ে সিরিজ শেষ করতে৷

আগের দুই ম্যাচের মতোই আজও আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে।
শেষ ম্যাচে উভয় দলই চারটি করে পরিবর্তন নিয়ে একদশ সাজায়। বাংলাদেশ দলে ফেরেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি, সাথে খাদিজা, লতা ও ফারিহা। বিশ্রামে থাকেন জাহানারা, সালমা, শারমিন ও রিতু।
জিম্বাবুয়ে দলে ফিরেন তারকা অলরাউন্ডার জোসেফিন এনকোমো।

করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পিচ পরিচর্যা

আজ শুরুটা ভালোই হয় জিম্বাবুয়ের। তারা প্রথম উইকেট হারায় ২৪ রানের মাথায়। নাহিদার রান আউটে সাজঘরের পথ ধরের মুপাচিকা(৯)।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসা নাহিদা এদিন টানা নিজের দশ ওভার করেন। প্রথম চার ওভারে তেমন কিছু করতে না পারলেও পঞ্চম ওভারে এসে দুই উইকেট নেন; এনদিয়ারার(৯) আউটের পর এদিনও ব্যর্থ হন অধিনায়ক ম্যারি-এন মুসোন্দা, আজ ডাক মেরেছেন তিনি। নিজের পরবর্তী ওভারে এসে আরো দুই উইকেট পান নাহিদা। সপ্তম ওভারে এসে দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে নারীদের ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট শিকার করেন তিনি। ৭২ রানে শেষ ৩ উইকেট যায় জিম্বাবুয়ের। ধারাবাহিকভাবে উইকেট পতনের মাঝে ওপেনার শার্ন মায়ার্স একপ্রান্ত আগলে রেখে করেন ৩৯ রান, তিনি ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। মুসোন্দা – এনকোমোসহ পাঁচজনই ০ রানে আউট হলে বাকী পাঁচ ব্যাটার মিলে ৭২ রানের পুঁজি গড়তে সক্ষম হন।

নাহিদা আক্তারের পাঁচ উইকেট বাংলাদেশ নারী দলের পক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেট দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার, বাংলাদেশ নারী দলের পক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে বিদেশের মাটিতে সেরা বোলিং ফিগার ও দ্বিতীয় বাংলাদেশী নারী বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট।

ব্যাটিংয়ে আজ মুর্শিদার সঙ্গে ওপেনিংয়ে আসেন নুজহাত তাসনিয়া। দলীয় ৩২ রানের মাথায় তাসনিয়া ১০ রান করে আউট হন। রুমানা করেন ১২। শেষদিকে জয়ের ৩ রান দূরে থাকতে সোবহানা আউট হলেও চার মেরে বাংলাদেশকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মুর্শিদা। ৭ উইকেটের বড় জয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় টাইগ্রেসরা।

টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মুর্শিদা খাতুন। এক ফিফটিতে তার সংগ্রহ ৯৭ রান। সবচেয়ে বেশী উইকেট নিয়েছেন নাহিদা, তিন ম্যাচে তার ঝুলিতে ১১টি উইকেট। যা নারী একদিবসীয় ক্রিকেটের কোনো সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাদিজা তুল কুবরার ৫ ম্যাচে ১১ উইকেট।

প্লেয়ার অফ দ্যা টুর্নামেন্ট, বোলার অফ দ্যা টুর্নামেন্ট এবং প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ

জিম্বাবুয়ের সাথে এবারই প্রথম কোনো সিরিজ খেললো টাইগ্রেসরা। একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে সিরিজ জয় করলো তারা। ২১ তারিখ হতে শুরু হবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব, এই সিরিজ জয়ের অভিজ্ঞতা ও কনফিডেন্স কাজে লাগিয়ে নিশ্চয়ই সেখানে দারুণ কিছু করবে তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
জিম্বাবুয়ে ৭২/১০(২৭.২)
মায়ার্স ৩৯, মুপাচিকা ৯, এনদিয়ারা ৯;
নাহিদা ১০-৪-২১-৫, রুমানা ৪-০-৭-২, ফারিহা ৩.২-০-১৭-২
অতিরিক্ত ৮

বাংলাদেশ ৭৪/৩(১৮.২)
মুর্শিদা ৩৯*, নিগার ১২, নুজহাত ১০;

এমবোফানা ১২-১, ফিরি ১৪-১, সিবান্দা ২৫-১
অতিরিক্ত ১২