২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্ট্রাইক রেইট নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা ট্রেন্ড হয়ে গেছে____ তামিম ইকবাল

প্রতিবেদক
ডেস্ক নিউজ
বুধবার, ৬ জানুয়ারি , ২০২১ ৯:৩৭

সম্প্রতি ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের একটি সাক্ষাতকারে নিজের স্ট্রাইক রেইট সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল, কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু কাপে নিজের পারফরমেন্স এবং আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ নিয়ে। চলুন দেখি ক্রিকবাজকে কি বলেছেন তামিম ইকবালঃ

প্রশ্নঃ ২০২০ সাল আপনার জন্য কেমন হতাশাজনক ছিলো?
তামিম ইকবালঃ ২০২০ সালে আমাদের অনেকগুলো টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিলো কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত করোনা মহামারির কারনে সেগুলা হয়নি এবং এটা আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য ক্ষতি। দল হিসেবে আমরা খুবই আশাবাদী ছিলাম যে এই বছরটি আমাদের দুর্দান্ত হবে কারন গত বছরের মত এত ব্যস্ত সূচী আমাদের কখনো ছিলো না, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে মহামারি দেখা দিলো! শুধু আমাদের জন্য না পুরো বিশ্বজুড়েই একই অবস্থা যেখানে আমাদের কিছু করার ছিলো না, কারন আপনি এটার বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন না। তবুও আমরা ভাগ্যবান যে আমরা এখনো প্রিয়জনদের সাথে সুস্থ আছি।

প্রশ্নঃ লকডাউনে আপনি কিভাবে নিজেকে শারীরিক এবং মানুষিকভাবে ফিট রেখেছেন যেখানে আপনি জানতেন না পরবর্তীতে আপনি কবে খেলবেন?
তামিম ইকবালঃ শারীরিকভাবে ফিট থাকাটা সহজ ছিলো কারন জীম এবং রানিং ছাড়া আমাদের তেমন কিছু করার ছিলো না, আর এই দুইটা আপনি ঘরে বসেই করতে পারেন। কিন্তু মানসিকভাবে ব্যাপার টা কঠিন ছিলো বিশেষ করে শুরুর দিকে যখন লকডাউন শুরু হচ্ছিলো, এবং এটা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং ছিলো। তবে ধীরেধীরে আমরা অভ্যস্ত হয়ে যাই, তবে এখন সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হচ্ছে জৈব সুরক্ষা কেন্দ্র আর যারা এই জৈব সুরক্ষা কেন্দ্রে অবস্থান করেছেন তারাই বলতে পারবেন এটা কতটা কঠিন, এবং সম্ভবত এটা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং এখন। শুধুমাত্র বায়ো বাবলে থাকা প্লেয়াররা বলতে পারবে এটক কতটা দমবদ্ধ।

প্রশ্নঃ জৈব সুরক্ষা কেন্দ্রে সম্পর্কে আমাদের আরও কিছু বলুন, এটা কি খুবই বিরক্তিকর?
তামিম ইকবালঃ বিরক্তিকর কিনা তা বলতে পারি না তবে অবশ্যই মানসিকভাবে প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আপনি যখন পারফর্ম করতে পারছেন না তখন যদি একটি আবদ্ধ ঘরে বসে থাকেন এটা আরও কঠিন হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে আমরা যখন মাঠে পারফর্ম করতে না পারি তাহলে হোটেলে ফিরে আসার পর সাধারণত বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে দেখা করি এবং এটি দ্রুত কামব্যাক করতে সহায়তা করে। কিন্তু এখন আপনি যদি পারফর্ম করতে না পারেন তাহলে রুমে ফিরে এটি নিয়েই ভাবতে হবে কারন অন্য কিছুই করার নেই। যখন আপনি জানবেন যে আপনাকে বাইরে যেতে দেওয়া হবে না তখন এটি সত্যিই কঠিন হয়ে যায়, আপনার চলাফেরায় যখন সীমাবদ্ধতা ঠিক করে দেওয়া হবে তখন আপনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হবেন। এটি একটি নতুন জিনিস যার মধ্য দিয়েই আমাদেরকে যেতে হবে, এবং ভবিষ্যতেও হয়তো এই বায়ো বাবলে আরও অনেক সময় কাটাতে হবে। দেখা যাক কতদূর যায় তবে আমি নিশ্চিত এটা সহজ হবে না।

প্রশ্নঃ যদিও আপনি এখনও ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দিতে পারেননি কিন্তু ২০২০ সালে ঘরোয়া দুটি প্রতিযোগিতায় আপনি অধিনায়কত্ব করেছেন, বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার আগে এটা কি ভালো প্রস্তুতি ছিলো?
তামিম ইকবালঃ অভিজ্ঞতা খুব বেশি চমৎকার ছিলো না, দল হিসেবে আমরা দুর্দান্ত কিছু করতে পারিনি কিন্তু তারপরও ভালো ছিলো। আমি এটাকে ইতিবাচক মানসিকতার সাথে দেখছি, চিন্তা করছি আপনি যখন ঘরোয়াতে কঠিন সময় পার করবেন তখনই আপনি কিছু শিখতে পারবেন। আমার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমি যা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি তা থেকে কিছু শিখতে পারছি কিনা, যদি আমি শিখতে পারি তাহলে ভালো কিন্তু যদি কিছু শিখতে না পারি তখনই সমস্যা। জাতীয় দলে অধিনায়কত্ব করাটা পুরোপুরি ভিন্ন ব্যাপার কারন সেখানে আপনি অনেক সহায়তা পাবেন এবং আপনার সাথে অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকবে। আশা করি এইবার অন্যরকম কিছু হবে।

প্রশ্নঃ আপনাকে মাশরাফির স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে যে কিনা বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক, তুলনা করার ক্ষেত্রে আপনি কি মনে করেন এটি আপনার জন্য চাপ তৈরি করবে?
তামিম ইকবালঃ কোন তুলনা হওয়া উচিত নয় কিন্তু আমি জানি তবুও এটি হবে, এবং এটা শুধু আমার ক্ষেত্রেই না বরং যেকেউ মাশরাফি ভাইয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে তার সাথেই এটা ঘটেছে, যদিও কেউ নতুন হয়। মানুষজন আমাকে কি বলবে, সাংবাদিকরা আমাকে কি জিজ্ঞাসা করবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কি লেখা হবে এই জিনিস গুলা আমার নিয়ন্ত্রনে নেই। যেটা আমার নিয়ন্ত্রনে নেই সেটা নিয়ে কথা বলারও কোন মানে হয় না। সাধারণ মানুষের যা ভালো লাগে তা বলার এবং লেখার স্বাধীনতা আছে, তবে আমি দল নিয়ে কি চিন্তা করছি সেটা করতে হবে এবং দেখতে হবে আমি কোথায় আছি।

প্রশ্নঃ বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপ শেষ হওয়ার পর আপনাকে দক্ষ একটি ট্রেনিং সেশনে অংশ নিতে দেখা গেছে যেখানে আপনি রিভার্স সুইপ এবং আরও কিছু ট্রিক শটের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। এটা কি আপনার খেলার পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা ছিলো?
তামিম ইকবালঃ এটা বলা ভুল হবে যে আমি রিভার্স সুইপ খেলি না, আমি হয়তো খুব বেশি এই শট খেলি না তবে আমি আন্তর্জাতিক ম্যাচে এই শট খেলেছি বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে হয়তো বেশি খেলি কারন সেখানে অনেক ফাঁকা জায়গা থাকে এবং এটা খেলা যায়। ব্যাটিংয়ের দিক থেকে আমি সবসময় নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করি এবং নতুন শট রপ্ত করার চেষ্টা করি। ব্যাটিংয়ে কেউ দুইদিন, পাঁচদিন অথবা একমাসে কেউ নতুন শটের সাথে পরিচিত হতে পারবে না, অনুশীলনে আপনাকে অনেক আত্মবিশ্বাসী হতে হবে যে আপনি এটাকে ভালোভাবে হিট করতে পারছেন। আমি সর্বদা আমার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমি বিশ্বাস করি যে আপনার প্রতিপক্ষের চাইতে আপনাকে একধাপ এগিয়ে থাকতে হবে অন্যথায় তারা আপনাকে পেয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ পাকিস্তান প্রিমিয়ারলীগে আপনি খুব ইতিবাচক ব্যাটিং করেছেন, এটা কি আপনার দলের মিডল অর্ডার শক্ত থাকার কারনে? মন খুলে খেলার এই ব্যাপার টা কি দলের উপর নির্ভর করে?
তামিম ইকবালঃ এটা আসলে সবকিছুর সমন্বয়য়ে হয়ে থাকে, বিষয়টা হলো আপনি কেমন উইকেটে ব্যাট করছেন অথবা আপনার দল পুরোপুরি আপনার উপর নির্ভরশীল কিনা। আপনি যদি জানতে পারেন যে আপনার দল আপনার উপর নির্ভরশীল তাহলে আপনাকে যতক্ষণ সম্ভব ক্রিজে থাকা যায় এটা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু যখন জানতে পারবেন যে আরও পাঁচ ছয় জন প্লেয়ার আছে যারা খারাপ সময়ে হাল ধরতে পারবে তাহলে আপনি ঝুঁকি নিতে পারেন, সুতরাং এটা অনেক কিছুর সংমিশ্রণ।

প্রশ্নঃ বঙ্গবন্ধু টি২০ কাপে আপনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তারপরও আপনার ব্যাটিংয়ের ধরণ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে, আপনার স্ট্রাইক রেইট নিয়ে প্রশ্ন উঠে!
তামিম ইকবালঃ স্ট্রাইক রেইট নিয়ে প্রশ্ন করাটা এখন একটি ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে, আগামীকাল আরও একটি ট্রেন্ড আসবে এবং আপনি গত দশ বছরে ফিরে তাকাবেন দেখবেন কোন না কোন ট্রেন্ড দেখতে পাবেন। আগে একটি ট্রেন্ড ছিলো যে তিনি বড় দলের সাথে দুই তিনটি ম্যাচ জিতে যাওয়ার পরও তিনি ডিফেন্সিভ অধিনায়ক, আর এখন হচ্ছে ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেইট নিয়ে প্রশ্ন তোলা। আমার দল যদি আমার ১১০ অথবা ১৫০ স্ট্রাইক রেইটে উপকৃত হয় তাহলে আমার কিছু যায় আসে না, যখনই আমি অনুভব করি যে আমি কোন ভুল করেছি বা আমি ভুলভাবে হিসেব করেছি তাহলে সবার আগে আমি সেটা স্বীকার করি এবং আমি কখনো সেটাকে প্রাধান্য দিই না। আমি জানি আমরা বঙ্গবন্ধু টি২০ কাপের সেমিফাইনালে কিছটা ধীরে শুরু করেছিলাম এবং দ্রুত দুটি উইকেট হারাই আমরা কিন্তু এখনো আমি মনে করি যে আমরা আরও দুই একটি ঝুঁকি নিতে পারতাম কিন্তু আমরা তা করিনি। পুরষ্কার বিতরণীতে আমিই আমার হাত তুলে বলেছিলাম যে আমরা ধীরে শুরু করেছি, কিন্তু সময়টা এমন ছিলো যে আমার দল আমার কাছ থেকে এমন ব্যাটিং প্রত্যাশা করেছে কিন্তু আমি এখনো এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় যা আমার জন্য খুবই বিব্রতকর কারন আমি এই টাইপের প্রশ্নের উত্তর দিতে অভ্যস্ত না।

প্রশ্নঃ আপনার টি২০ খেলাটা আপনি কোন পর্যায় দেখতে চান?
তামিম ইকবালঃ আমি মনে করি টি২০ তে আমার অনেক উন্নতি করতে হবে, আমি যদি ওয়ানডে এবং টেস্টের সাথে তুলনা করি তাহলে আমার মনে হয় এই খেলায় আমি বেশি কিছু অর্জন করতে পারিনি।

প্রশ্নঃ সাকিব আল হাসান ক্রিকেটে ফিরেছে কিন্তু আগের ফর্ম নেই, নতুন অধিনায়ক হিসেবে এটা কি আপনার জন্য উদ্বেগজনক?
তামিম ইকবালঃ মোটেও না, কারন আমি এমন একজন মানুষ যে ইতিহাসে বিশ্বাসী বর্তমান পরিস্থিতিতে না। কারও যদি ইতিহাস ভালো থাকে তাহলে সে যেকোন সময় আকর্ষনীয় কিছু করতে পারে, এবং সাকিবের ইতিহাস অসাধারণ। আমি আত্মবিশ্বাসী সে আগামী সিরিজেই ভালোভাবে কামব্যাক করবে, আমি ওকে নিয়ে চিন্তিত না এবং শুধুমাত্র আমি না পুরো জাতিরই ওর উপর আস্থা আছে।

প্রশ্নঃ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব বিবেচনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ওয়ানডে সিরিজে সম্পূর্ণ পয়েন্ট পাওয়া নিয়ে কি আপনি আত্মবিশ্বাসী? আপনি কি মনে করেন না একটি পয়েন্ট হারানো অনেক দূর ঠেলে দিতে পারে?
তামিম ইকবালঃ যখন কেউ নিজেদের বাড়িতে খেলে তখন সে সব জিততে চাইবে, তবে আমাদের সব জিততে হবে এমন কিছু ভেবে আমরা খেলতে চাই না। আমরা প্রতিটি ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করবো, আমাদের সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত, এবং আমরা যদি সব জায়গায় পাশ করতে পারি তাহলে ভালো রেজাল্ট আসবে।

প্রশ্নঃ আপনি বলতেছেন আপনি সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে চান, কি প্রক্রিয়া বিস্তারিত যদি বলেন?
তামিম ইকবালঃ ওয়ানডে ম্যাচ গুলাতে আপনাকে জানতে হবে আপনি কিভাবে শুরু করবেন, শুরুটা কিভাবে ভালো করা যায়, মিডল অর্ডারে কিভাবে ব্যাট করতে হবে এবং কৌশল কি এই ব্যাপার গুলাই আমার কাছে প্রক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। সমস্ত প্লেয়ার যদি ব্যাটিং বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে পাশ করতে পারে তাহলে ভালো রেজাল্ট আসবে। অনেক অনেক সময় ওপেনার দ্রুত আউট হয়ে ফিরে যায় এবং মিডল অর্ডার এসে লড়াই করতে হয়। আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশ দল সাফল্য পেতে হলে আমাদের চার পাঁচজন সিনিয়রকে হাত খুলে পারফর্ম করতে হবে, একজনের ওয়ান ম্যান শো দিয়ে ম্যাচ জিতে যাওয়া খুব কম সময়ই ঘটে। বাংলাদেশের সাফল্যের ইতিহাস যদি দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন সেদিন চার পাঁচজন ক্রিকেটার দুর্দান্ত খেলেছিলো।

সোর্সঃ ক্রিকবাজ

মতামত জানান :